লালন শাহ এর গান মন আমার গেল জানা-আজকের আয়োজন
Table of Contents
মন আমার গেল জানা

মন আমার গেল জানা
কারো রবে না এ ধন জীবন যৌবন
তবে রে কেন এত বাসনা।
একবার সবুরের দেশে বয় দেখি দম কসে
উঠিস না রে ভেসে পেয়ে যন্ত্রণা ॥
যে করিল কালার চরণের আশা
জান না রে মন তার কী দুর্দশা
ভক্ত বলি রাজা ছিল, সর্বস্ব ধন নিল
বামুন রূপে প্রভু করে ছলনা ॥
প্রহ্লাদ চরিত্র দেখ চিত্রধামে
কত কষ্ট পেল সেহি কৃষ্ণনামে
তারে জলেতে ডুবাইল, অগ্নিতে পুড়াইল
তবু না ছাড়িল শ্রীনাম সাধনা ॥
কর্ণরাজা ভবে বড়দাতা ছিল
অতিথি রূপে তাহার সবংশে নাশিল
তবু কর্ণ অনুরাগী, না হইল শোগী
অতিথির মন করেন সান্ত্বনা ॥
রামের ভক্ত লক্ষ্মণ ছিল সর্বকালে
শক্তিশেল হানিল তাহার বক্ষস্থলে
তবু রামচন্দ্রের প্রতি, লক্ষ্মণ ভুলিল ভক্তি
লালন বলে কর এ বিবেচনা ॥

লালনের ঠাকুর পরিবারের সাথে সম্পর্ক
কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের অনেকের সঙ্গে লালনের পরিচয় ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া যায়। বিরাহিমপুর পরগনায় ঠাকুর পরিবারের জমিদারিতে ছিল তার বসবাস এবং ঠাকুর-জমিদারদের প্রজা ছিলেন তিনি। উনিশ শতকের শিক্ষিত সমাজে তার প্রচার ও গ্রহণযোগ্যতার পেছনে ঠাকুর পরিবার বড় ভূমিকা রাখেন।
কিন্তু এই ঠাকুরদের সঙ্গে লালনের একবার সংঘর্ষ ঘটে। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কুষ্টিয়ার কুমারখালির কাঙাল হরিনাথ মজুমদার গ্রামবার্তা প্রকাশিকা নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করতেন। এরই একটি সংখ্যায় ঠাকুর-জমিদারদের প্রজাপীড়নের সংবাদ ও তথ্য প্রকাশের সূত্র ধরে উচ্চপদস্থ ইংরেজ কর্মকর্তারা বিষয়টির তদন্তে প্রত্যক্ষ অনুসন্ধানে আসেন।
এতে করে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের উপর বেজায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ঠাকুর-জমিদারেরা। তাঁকে শায়েস্তা করার উদ্দেশ্যে লাঠিয়াল পাঠালে শিষ্যদের নিয়ে লালন সশস্ত্রভাবে জমিদারের লাঠিয়ালদের মোকাবিলা করেন এবং লাঠিয়াল বাহিনী পালিয়ে যায়। এর পর থেকে কাঙাল হরিনাথকে বিভিন্নভাবে রক্ষা করেছেন লালন।

লালনের জীবদ্দশায় তার একমাত্র স্কেচটি তৈরী করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। লালনের মৃত্যুর বছরখানেক আগে ৫ মে ১৮৮৯ সালে পদ্মায় তার বোটে বসিয়ে তিনি এই পেন্সিল স্কেচটি করেন- যা ভারতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। যদিও অনেকের দাবী এই স্কেচটিতে লালনের আসল চেহারা ফুটে ওঠেনি।
