আমার চরকা ভাঙা টেকো আড়ানে – লালন শাহ

লালন শাহ এর গান আমার চরকা ভাঙা টেকো আড়ানে – নিয়ে আজকের আয়োজন।

আমার চরকা ভাঙা টেকো আড়ানে

 

আমার চরকা ভাঙা টেকো আড়ানে - লালন শাহ

 

আমার চরকা ভাঙা টেকো আড়ানে।

আমি টিপে সোজা করব কত আর তো প্রাণে বাঁচিনে ॥

একটি আঁটি আরকটি খসে 

বেতো চরকা লয়ে যাব কোন দেশে

আর কতকাল জ্বলবো এ হালে

এ বেতো চরকার গুণে ॥

ছুতোর ব্যাটার গুণ পরিপাটি

ষোল কলে ঘুরায় টেকোনি

তার একটি কলে বিকল হলে

সারতে পারে কোনজনে ॥

সামান্য কাঠ পাটের চরকা নয়

তার খসলে খুঁট খেটে আঁটা যায় 

মানবদেহ চরকা সে তো

লালন কি তার ভেদ জানে ॥

 

লালন শাহ এর ধর্ম বিশ্বাস

লালনের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে গবেষকদের মাঝে যথেষ্ট মতভেদ রয়েছে, যা তার জীবদ্দশায়ও বিদ্যমান ছিল।[টীকা ১] তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত প্রবাসী পত্রিকার মহাত্মা লালন নিবন্ধে প্রথম লালন জীবনী রচয়িতা বসন্ত কুমার পাল বলেছেন, “সাঁইজি হিন্দু কি মুসলমান, এ কথা আমিও স্থির বলিতে অক্ষম।” বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় লালনের জীবদ্দশায় তাকে কোনো ধরনের ধর্মীয় রীতি-নীতি পালন করতেও দেখা যায়নি। লালনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না।

নিজ সাধনাবলে তিনি হিন্দুধর্ম এবং ইসলামধর্ম উভয় শাস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন। তার রচিত গানে এর পরিচয় পাওয়া যায়। প্রবাসী পত্রিকার নিবন্ধে বলা হয়, লালনের সকল ধর্মের লোকের সাথেই সুসম্পর্ক ছিল। মুসলমানদের সাথে তার সুসম্পর্কের কারণে অনেকে তাকে মুসলমান বলে মনে করতেন। আবার বৈষ্ণবধর্মের আলোচনা করতে দেখে হিন্দুরা তাকে বৈষ্ণব মনে করতেন। প্রকৃতপক্ষে লালন ছিলেন মানবতাবাদী এবং তিনি ধর্ম, জাত, কূল, বর্ণ, লিঙ্গ ইত্যাদি অনুসারে মানুষের ভেদাভেদ বিশ্বাস করতেন না।

বাংলা ১৩৪৮ সালের আষাঢ় মাসে প্রকাশিত মাসিক মোহম্মদী পত্রিকায় এক প্রবন্ধে লালনের জন্ম মুসলিম পরিবারে বলে উল্লেখ করা হয়।[১৬] আবার ভিন্ন তথ্যসূত্রে তার জন্ম হিন্দু পরিবারে বলে উল্লেখ করা হয়।

 

আমার চরকা ভাঙা টেকো আড়ানে - লালন শাহ

 

লালনের ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে ঔপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন

লালন ধার্মিক ছিলেন, কিন্তু কোনো বিশেষ ধর্মের রীতিনীতি পালনে আগ্রহী ছিলেন না। সব ধর্মের বন্ধন ছিন্ন করে মানবতাকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছিলেন জীবনে

Leave a Comment