কে বোঝে মওলার আলেকবাজি-লালন শাহ

লালন শাহ এর গান  কে বোঝে মওলার আলেকবাজি-  নিয়ে আজকের আয়োজন।

কে বোঝে মওলার আলেকবাজি

 

কে বোঝে মওলার আলেকবাজি-লালন শাহ

কে বোঝে মওলার আলেকবাজি।

করছে রে কোরানের মানে যা আসে যার মনের বুঝি ॥

একই কোরান পড়াশুনা

কেউ মৌলবি কেউ মওলানা

দাহেরা হয় কত জনা

সে মানে না শরার কাজি ॥

রোজ  কেয়ামত বলে সবাই

কেউ বলে না তারিখ নির্ণয়

হিসাব হবে কি হচ্ছে সদাই

কোন কথায় মন রাখি রাজি ॥

মলে জান ইল্লিন সিজ্জিন রয়

যতদিন রোজ হিসাব না হয়

কেউ বলে জান ফিরে জন্মায়

তবে ইল্লিন সিজ্জিন কোথায় আজি ॥

আর এক বিধান শুনিতে পাই

এক গোর মানুষের মউত নাই

আ-মরি কি ভজন রে ভাই

বাঞ্ছে লালন কারে পুঁছি ॥

 

মৃত্যু

লালন শাহের মাজারের সম্মুখে শিষ্যদের কবর

লালন ১৮৯০ সালের ১৭ই অক্টোবর লালন ১১৬ বছর বয়সে কুষ্টিয়ার কুমারখালির ছেউড়িয়াতে নিজ আখড়ায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর প্রায় একমাস পূর্ব থেকে তিনি পেটের সমস্যা ও হাত পায়ের গ্রন্থির সমস্যায় ভুগছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় দুধ ছাড়া অন্য কিছু খেতেন না। এসময় তিনি মাছ খেতে চাইতেন। মৃত্যুর দিন ভোর ৫টা পর্যন্ত তিনি গান-বাজনা করেন এবং এক সময় তার শিষ্যদের বলেন, “আমি চলিলাম”, এবং এর কিছু সময় পরই তার মৃত্যু হয়।

তার নির্দেশ বা ইচ্ছা না থাকায় তার মৃত্যুর পর হিন্দু বা মুসলমান কোনো ধরনের ধর্মীয় রীতি নীতিই পালন করা হয় নি। তারই উপদেশ অনুসারে ছেউড়িয়ায় তার আখড়ার মধ্যে একটি ঘরের ভিতর তার সমাধি গড়ে তোলা হয়।আজও সারা বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাউলেরা অক্টোবর মাসে ছেউড়িয়ায় মিলিত হয়ে লালনের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

 

কে বোঝে মওলার আলেকবাজি-লালন শাহ

 

তার মৃত্যুর ১২ দিন পর তৎকালীন পাক্ষিক পত্রিকা মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত হিতকরী-তে প্রকাশিত একটি রচনায় সর্বপ্রথম তাঁকে ‘মহাত্মা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। রচনার লেখকের নাম রাইচরণ।

Leave a Comment