লালন শাহ এর গান আছে আদি মক্কা এই মানবদেহে দেখ না রে মন ভেয়ে – নিয়ে আজকের আয়োজন।
Table of Contents
আছে আদি মক্কা এই মানবদেহে দেখ না রে মন ভেয়ে

আছে আদি মক্কা এই মানবদেহে দেখ না রে মন ভেয়ে।
দেশ-দেশান্তর দৌড়ে এবার মরছ কেন হাঁপিয়ে ॥
করে অতি আজব ভাক্কা
গঠেছে সাঁই মানুষ-মক্কা
কুদরতি নূর দিয়ে ।
ও তার চারদ্বারে চার নূরের ইমাম
মধ্যে সাঁই বসিয়ে॥
তিল পরিমাণ জায়গার ভিতর
গঠেছেন সাঁই ঊর্ধ্বশহর
মানুষ মক্কা এ
লাখ লাখ হাজি করছে রে হজ
সেই জায়গায় বসিয়ে ॥
মানুষ-মক্কা কুদরতি কাজ
উঠছে রে আজগৈবি আওয়াজ
সাত তালা ভেদিয়ে ।
সিংদরজায় একজন দ্বারী
নিদ্ৰাত্যাগী হয়ে ॥
দশ-দুয়ারী মানুষ-মক্কা
মুর্শিদ পদে ডুবে থাক গা
ধাক্কা সামলিয়ে।
লালন বলে গুপ্ত মক্কা
আদি ইমাম সেই মেয়ে ॥
লালন শাহ এর বিশ্ব সাহিত্যে প্রভাব
লালনের গান ও দর্শনের দ্বারা অনেক বিশ্বখ্যাত কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক প্রভাবিত হয়েছেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ লালনের মৃত্যুর ২ বছর পর তার আখড়া বাড়িতে যান এবং লালনের দর্শনে প্রভাবিত হয়ে ১৫০টি গান রচনা করেন। তার বিভিন্ন বক্তৃতা ও রচনায় তিনি লালনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। লালনের মানবতাবাদী দর্শনে প্রভাবিত হয়েছেন সাম্যবাদী কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
মার্কিন কবি এলেন গিন্সবার্গ লালনের দর্শনে প্রভাবিত হন এবং তার রচনাবলিতেও লালনের রচনাশৈলীর অনুকরণ দেখা যায়। তিনি আফটার লালন নামে একটি কবিতাও রচনা করেন। লালনের সংগীত ও ধর্ম-দর্শন নিয়ে দেশ-বিদেশে নানা গবেষণা হয়েছে ও হচ্ছে। ১৯৬৩ ছেউড়িয়ায় আখড়া বাড়ি ঘিরে লালন লোকসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর লালন লোকসাহিত্য কেন্দ্রের বিলুপ্তি ঘটিয়ে ১৯৭৮ সালে শিল্পকলা একাডেমীর অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয় লালন একাডেমী।
তার মৃত্যুদিবসে ছেউড়িয়ার আখড়ায় স্মরণ উৎসব হয়। দেশ-বিদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অসংখ্য মানুষ লালন স্মরণোৎসব ও দোল পূর্ণিমায় এই আধ্যাত্মিক সাধকের দর্শন অনুস্মরণ করতে প্রতি বছর এখানে এসে থাকেন। ২০১০ সাল থেকে এখানে পাঁচ দিনব্যাপী উৎসব হচ্ছে।

এই অনুষ্ঠানটি “লালন উৎসব” হিসেবে পরিচিত। ২০১২ সালে এখানে ১২২তম লালন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
